স্টাফ রিপোর্টার:
রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতায় যিনি সবসময় দৃঢ় ও অবিচল, সেই মানুষটিও যে পিতার স্মৃতির সামনে মুহূর্তেই হয়ে উঠতে পারেন আবেগপ্রবণ এক সন্তান-তারই এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী হলো গাজীপুরের সাতাশ মৌজা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় দুর্যোগ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী আবেগঘন মুহূর্ত। আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাঝেই যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ায় সময়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন একটি বিশেষ স্মারক। এটি ছিল ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের গাজীপুর সফরের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।
স্মারকটি হাতে নিয়েই কয়েক মুহূর্তের জন্য নীরব হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপস্থিত অতিথিদের চোখে ধরা পড়ে এক অন্যরকম অনুভূতির দৃশ্য। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা মানুষটি তখন যেন আর কেবল রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্মৃতিমগ্ন এক পুত্র।
হাতে ধরা সেই স্মারকটি গভীর মনোযোগে দেখছিলেন তিনি। যেন স্পর্শের ভেতর অনুভব করার চেষ্টা করছিলেন বাবার রেখে যাওয়া অদৃশ্য উপস্থিতি। তাঁর দৃষ্টি তখন ফিরে গেছে ৪৬ বছর আগের সেই সময়ে—যেখানে জড়িয়ে আছে শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক আবেগ এবং এক রাষ্ট্রনায়কের কর্মময় জীবনের প্রতিচ্ছবি।
অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে এক আবেগঘন নীরবতা। উপস্থিত অতিথিরাও অনুভব করেন মুহূর্তটির গভীরতা। অনেকেই বলেন, রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার আড়ালেও একজন সন্তানের হৃদয়ে পিতার স্মৃতি কতটা জীবন্ত থাকতে পারে—এই আয়োজন যেন তারই বিরল উদাহরণ হয়ে থাকল।
এমন সংবেদনশীল ও ব্যতিক্রমধর্মী উপহারের জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বস্তুগত মূল্যের চেয়ে এই স্মারকের আত্মিক মূল্য তাঁর কাছে অনেক বেশি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও জেলা প্রশাসকের সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, সাধারণ উপহারের ভিড়ে এমন একটি স্মারক, যা একজন মানুষকে তার শেকড় ও অতীতের স্মৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়—তা সত্যিই ব্যতিক্রমী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক প্রবীণ ব্যক্তি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,কিছু উপহার থাকে, যেগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না-শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়।”
গাজীপুরের সাতাশ মৌজার সেই দিনটি তাই শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে পিতা ও পুত্রের অদৃশ্য আবেগের এক অনন্য স্মারক।
উন্নয়ন, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার এই সময়েও বাবার স্মৃতি যে সন্তানের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে বেঁচে থাকতে পারে—সাতাশ মৌজার সেই আবেগঘন দুপুর যেন আবারও মনে করিয়ে দিল সেই চিরন্তন সত্য।
.jpg)