Type Here to Get Search Results !
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

Footer Copyright

গাজীপুর-২ আসনে ৪৯ শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে ধানের শীষ প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-এর বৈঠক, দেলোয়ার হোসেন সরকারের নেতৃত্বে ৯ দফা দাবি পেশ

NewsGazipur

 

গাজীপুর প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-এর সঙ্গে গাজীপুরে কর্মরত ৪৯টি শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৯ দফা দাবি হুবহু প্রার্থীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

মতবিনিময় সভার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শ্রমিক নেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার। বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন, গাজীপুর জেলা-এর সভাপতি হিসেবে তিনি সভার নেতৃত্ব দেন এবং শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

তার বক্তব্যে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নাগরিক সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি বলেন, এসব মৌলিক বিষয় নিশ্চিত না হলে টেকসই শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা কোনোভাবেই ধরে রাখা সম্ভব নয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব সুরুজ আহমেদ এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. তানভীর সিদ্দিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও গাজীপুরে শ্রমিকদের আবাসন সংকট, চিকিৎসা সুবিধার অভাব, শিক্ষা ও নিরাপত্তা সমস্যার কার্যকর সমাধান দীর্ঘদিনেও হয়নি। শিল্প উৎপাদনে শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দুর্বল বলেও তারা অভিযোগ করেন।

গাজীপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, শ্রমিকরা রাষ্ট্রের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত না হলে টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।

শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি 

১. শিল্প অঞ্চলে সরকারী উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য ডরমেটরি নির্মাণ, সরকারী স্কুল ও কলেজ, ডে-কেয়ার সেন্টার, খেলার মাঠ এবং বার্ন ইউনিট সহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সরকারী হাসপাতাল নিমার্ণ করতে হবে।

২. শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ মজুরী নিশ্চিত, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কারখানা ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চাল, সব কারখানায় ফেয়ার প্রাইস শপ চালু এবং শ্রমজীবিদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করতে হবে।

৩. বাড়ী ভাড়া আইন কার্যকর এবং বাড়ীভাড়া বৃদ্ধি রোধে সরকারী ভাবে তদারকি বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মত ভাড়াটিয়াদের সু-রক্ষায় সকল ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ঝুট ব্যবসায়ী কর্তৃক শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে বাঁধা প্রদান এবং সহিংসতা, মাদক সেবন ও ব্যবসা বন্ধ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি সহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধের কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. শ্রমিকদের চলাচলের জন্য ওভার ব্রীজ নির্মাণ, রাস্তায় আলোকবাতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কর্মস্থলে যাতায়তের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করতে হবে।

৬. আগামী জাতীয় সংসদে শ্রমজীবি মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠন সমূহের সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার বিষয়ক জাতীয় এডভোকেসি অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং স্কপ এর ৯ দফা দাবি উত্থাপন ও বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. বন্ধ কারখানা গুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বিভিন্ন কারখানায় চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে।

৮. শিল্প অঞ্চল গুলোতে নিত্য দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা স্থানীয় প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

৯. ১৮ দফা চুক্তি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে প্রণীত সংশোধিত শ্রম আইন, দেশের সকল সেক্টর ও শিল্প কারখানায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

কিছু শিল্প মালিক পক্ষ দাবি বাস্তবায়নে সময় ও কাঠামোগত প্রস্তুতির কথা বললেও শ্রমিক নেতারা মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে ধাপে ধাপে এসব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত হলে গাজীপুরসহ দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

Tags