Type Here to Get Search Results !
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

Footer Copyright

গাজীপুরে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী মেয়র মো. মুজিবুর রহমানের সঙ্গে শ্রমিকদের মতবিনিময়; ৯ দফা দাবি পেশে নেতৃত্বে মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার

NewsGazipur



গাজীপুর প্রতিনিধি—গাজীপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব মেয়র মো. মুজিবুর রহমান-এর সঙ্গে গাজীপুরে কর্মরত ৩৩টি শ্রমিক ফেডারেশন/সংগঠনের প্রতিনিধিদের নির্বাচনী মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুর চৌরাস্তায় আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রার্থীর কাছে শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়।


এই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শ্রমিক নেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার। তিনি বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন, গাজীপুর জেলা-এর সভাপতি হিসেবে সভার নেতৃত্ব দেন এবং শ্রমিকদের দাবিসমূহ উপস্থাপন করেন। সভায় তার বক্তব্যকে ঘিরেই আলোচনার মূল সুর দাঁড়িয়ে যায়—শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নাগরিক সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়।

মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকারের কণ্ঠেই শ্রমিকদের বার্তা

সভায় মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার বলেন, দেশের সরকার পরিবর্তন হয়, জনপ্রতিনিধিও পরিবর্তন হয়—কিন্তু শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনমান, সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বারবার উপেক্ষিত থেকে যায়। তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপদ চলাচল ও বাজার নিয়ন্ত্রণ—এসব মৌলিক বিষয় দীর্ঘদিন ধরে সমাধানহীন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন—

“শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়—তাই শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।”

নির্বাচনী ইশতেহারে ৯ দফা—প্রতিশ্রুতি চান দেলোয়ার সরকার

মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরকার জানান, গাজীপুর অঞ্চলের ৩২টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত গাজীপুর ৫টি সংসদীয় আসনের শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটি শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুরের ৫টি আসনের প্রার্থীদের কাছে শ্রমিকদের পক্ষে এই দাবিসমূহ তুলে ধরা হচ্ছে এবং তারা আশা করেন—প্রার্থীগণ নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করবেন।

সভায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, গাজীপুর জেলার সংসদীয় ৫টি আসনের সকল সংসদ সদস্য/প্রার্থীদের কাছেই পর্যায়ক্রমে একই দাবিনামা পেশ করা হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায় ও জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিক মতবিনিময়, জনসংযোগ এবং দাবিপেশ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

 ৯ দফা দাবি সমূহঃ 


১. শিল্প অঞ্চলে সরকারী উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য ডরমেটরি নির্মাণ, সরকারী স্কুল ও কলেজ, ডে-কেয়ার সেন্টার, খেলার মাঠ এবং বার্ন ইউনিট সহ ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সরকারী হাসপাতাল নিমার্ণ করতে হবে।


২. শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ মজুরী নিশ্চিত, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কারখানা ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চাল, সব কারখানায় ফেয়ার প্রাইস শপ চালু এবং শ্রমজীবিদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করতে হবে।


৩. বাড়ী ভাড়া আইন কার্যকর এবং বাড়ীভাড়া বৃদ্ধি রোধে সরকারী ভাবে তদারকি বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মত ভাড়াটিয়াদের সু-রক্ষায় সকল ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।


৪. ঝুট ব্যবসায়ী কর্তৃক শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে বাঁধা প্রদান এবং সহিংসতা, মাদক সেবন ও ব্যবসা বন্ধ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি সহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বন্ধের কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।


৫. শ্রমিকদের চলাচলের জন্য ওভার ব্রীজ নির্মাণ, রাস্তায় আলোকবাতি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং কর্মস্থলে যাতায়তের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করতে হবে।


৬. আগামী জাতীয় সংসদে শ্রমজীবি মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠন সমূহের সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার বিষয়ক জাতীয় এডভোকেসি অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং স্কপ এর ৯ দফা দাবি উত্থাপন ও বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।


৭. বন্ধ কারখানা গুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বিভিন্ন কারখানায় চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে।


৮. শিল্প অঞ্চল গুলোতে নিত্য দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা স্থানীয় প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।


৯. ১৮ দফা চুক্তি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে প্রণীত সংশোধিত শ্রম আইন, দেশের সকল সেক্টর ও শিল্প কারখানায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

Tags