বিশেষ প্রতিনিধি (গাজীপুর)
গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় পৃথক দুইটি গার্মেন্টসে হঠাৎ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায় । এ সময় অসুস্থ শ্রমিকদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন গার্মেন্টস কতৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ ই জানুয়ারী২০২৫ ইং) সকালে টঙ্গী বিসিক এলাকার এমট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ ও ব্রাভো এ্যাপারেলস লি: এ ঘটনা ঘটে।
ব্রাভো এ্যাপারেলস লিঃ এর শ্রমিকরা জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় সকাল থেকে কাজ শুরু করেন তারা। এ সময় হঠাৎ করে কারখানার ৫ম তলায় একটা দূর্গন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে শুরু করে। খবরটি ছড়িয়ে পরলে আতঙ্কিত হয়ে কারখানাটির বিভিন্ন ফ্লোরে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পরেন।
গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিঃ এর শ্রমিকরা জানান, দুই দিন আগে দুপুরের পর কারখানার বেশকিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পরলে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কতৃপক্ষ। গতকালও কারখানাটির কয়েকটি ফ্লোর বন্ধ থাকে। আজ সকালে কাজ শুরু করার পর হঠাৎ করে আবারও বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পরেন।
পরে উভয় কারখানা থেকে অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক অসুস্থ শ্রমিককে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এবিষয়ে উভয় কারখানার কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজী হননি।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে ৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭১ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহন করেছেন।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ নাহিদ সুলতানা বলেন, হাসপাতালে আসা বেশীর ভাগ শ্রমিক প্যানিক এ্যাটাক জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পরেছেন। তাদের মধ্যে কিছু শ্রমিক শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি দুই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন আছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আাছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
