খবর খুঁজুন
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

তিন ঘণ্টাও টিকল না কমিটি, পুরোনো অভিযোগে আস্থাহীন গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব

প্রতিনিধি - NewsGazipur
 তিন ঘণ্টাও টিকল না কমিটি, পুরোনো অভিযোগে আস্থাহীন গাজীপুর মহানগর  ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের গাজীপুর মহানগরের তিনটি ইউনিট কমিটি ঘোষণার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। সভাপতি মশিউর রহমান সরকার বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তাক আহমেদ কাজলের স্বাক্ষরে ঘোষিত এই কমিটিগুলো ঘিরে নতুন করে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (০২ জানুয়ারি) ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শাখা, কাউলতিয়া সাংগঠনিক থানা শাখা এবং বাসন থানা শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাংগঠনিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি ও একক সিদ্ধান্তে এসব কমিটি দেওয়া হয়েছে।

নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সভাপতি মশিউর রহমান সরকার বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তাক আহমেদ কাজল কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। এতে ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা বাদ পড়েন, যা বিভিন্ন ইউনিটে ক্ষোভ ও বিভাজন বাড়িয়ে তোলে।

পরিস্থিতি দ্রুতই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নজরে এলে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি ইউনিট কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত কম সময়ে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ নেতৃত্বের ওপর গভীর অনাস্থার ইঙ্গিত বহন করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এটি প্রথম অভিযোগ নয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসছে।

নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতেও কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মশিউর রহমান সরকার বাবু ও শেখ মোস্তাক আহমেদ কাজল গাজীপুরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। সেই অর্থ দিয়ে বাড়ি ও গাড়ি কেনার অভিযোগ সামাজিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনে আলোচিত হয়, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এদিকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, সিট-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বাস্তবতায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কমিটি ঘোষণা করায় গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব আরও বড় বিতর্কে জড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও এ ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা আইনগত ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

ঘটনাটি গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগে গভীর নেতৃত্ব সংকটকে প্রকাশ্যে এনেছে। এখন আলোচনা চলছে, শুধু এই তিনটি কমিটি নয়, বরং পুরো মহানগর নেতৃত্ব নিয়েই কি নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গাজীপুর মহানগরের ছাত্ররাজনীতি।