Type Here to Get Search Results !
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

Footer Copyright

গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তার।

 


গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের গ্রেপ্তারকে ঘিরে গাজীপুরসহ রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচালিত একটি ঝটিকা অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের পরপরই তাকে মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্র জানায়, উত্তরা বিভাগের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই রাতে এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে সাইফুল ইসলাম আগে থেকেই নজরদারিতে ছিলেন কি না—সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো অবৈধ অস্ত্র, নথিপত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে রিমান্ডে নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকায় পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

এদিকে, যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই গ্রেপ্তারের পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে আগ্রহী, আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পদে থাকা কোনো নেতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন পদক্ষেপ সাধারণত বহুমাত্রিক বার্তা বহন করে। একদিকে এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চলমান কার্যক্রমের অংশ হতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গাজীপুরের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের ঘটনা দলীয় অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। তার গ্রেপ্তারের ফলে মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিংবা গাজীপুর মহানগর ইউনিটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই ঘটনাকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভবিষ্যৎ গতিপথ।


Tags