নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও প্রবীণ বিএনপি নেতা খন্দকার সুলতান আহমেদ ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও উৎসব উদযাপনে অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে খন্দকার সুলতান আহমেদ দলটির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী -এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া বর্তমান পূর্বাচল উপশহর -এর পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়েও তিনি ভূমিকা পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য -এর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে খন্দকার সুলতান আহমেদ একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
এ বিষয়ে খন্দকার সুলতান আহমেদ বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। অতীতে জনগণের বিপুল সমর্থন পাওয়ার পরও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে চেয়ারম্যান হতে পারিনি। আমি বিশ্বাস করি, এবার নাগরী ইউনিয়নের জনগণ আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নাগরী ইউনিয়নে সকল ধর্মাবলম্বীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করব। মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ঢাকার নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও নাগরীতে প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করার চেষ্টা করব।”
তিনি জানান, নাগরীর বিভিন্ন বেদখল খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি একসময় দাতা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত নারীদের হস্ত ও কুটির শিল্প কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে তার অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম। নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নাগরী ইউনিয়নে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
