ডেটলাইন
ঢাকা, ৫ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতা সাগর ইসলাম হৃদয়। তার অভিযোগ, প্রতিবছরই নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে শ্রমিকদের জীবনে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।
তিনি বলেন, “পহেলা মে উপলক্ষে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠান হয়, কিন্তু দিনশেষে শ্রমিকের হাতে কিছুই আসে না।”
সাগর ইসলাম হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মৌলিক দাবি তুলে ধরে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে—বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, শ্রমিক সন্তানদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, বায়োমেট্রিক ব্ল্যাকলিস্ট প্রথা বাতিল এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ।
তার দাবি, ২০১৯ সাল থেকে এসব বিষয় বারবার উত্থাপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পেলে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করে। পাশাপাশি এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।তবে শিল্প সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ মনে করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বিনিয়োগ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাদের মতে, হঠাৎ করে মজুরি বৃদ্ধি করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে, যা রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার, শিল্পমালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ধাপে ধাপে এসব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব। বিশেষ করে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ শ্রমিকদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
শ্রমিক দিবসে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, সাগর ইসলাম হৃদয়ের বক্তব্য সেই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। উন্নয়নের ধারায় শ্রমিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
