গাজীপুরে টঙ্গীতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক কামরুজ্জামানের অফিসের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা আশপাশের দোকানদারদের কাছে গিয়ে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে থাকে। তারা অফিসের নিরাপত্তারক্ষী নান্টুকে ডেকে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে যায় এবং ব্যবসায়ী কামরুল সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চায়।
নিরাপত্তারক্ষী নান্টু জানান, ওই যুবকদের কথাবার্তায় তিনি অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। তিনি তাদের ভদ্রভাবে কথা বলতে বলেন এবং জানতে চান- ‘ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলুন, কামরুল কোথায় এভাবে বলছেন কেন?’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্বৃত্তরা পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় দুর্বৃত্তরা দ্রুত একটি নোহা মাইক্রোবাসে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার মাত্র দুই মিনিট আগে তিনি অফিসের সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি যাওয়ার পথে নিজের গার্ডেন থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি দাবি করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসীরা আগে থেকে অফিসের আশপাশে অবস্থান নিয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি গুলির খোসা, একটি তাজা গুলি এবং একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে। এদিকে গুলির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহিদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কি ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, টঙ্গী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
