স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুরের গাছা থানা এলাকায় জুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনার জেরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গাছা থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন মিয়া
পরিকল্পিতভাবে নিজের ইন্টারনেট অফিস এবং পাশের রাজনৈতিক অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাছা থানার ৩৪ নং ওয়ার্ডের ভূসির মিল এলাকার মেম্বার বাড়ি রোডে মারামারির ঘটনার পর গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
সে সময় অফিসে কিছু চেয়ার ভাঙা থাকলেও রাজনৈতিক নেতাদের কোনো ছবি ভাঙচুর বা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় দেখা যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ওই অফিসে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের ছবিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ছিঁড়ে ভাঙচুর করে টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেই নিজের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে এবং নেতাদের ছবি নষ্ট করে তা অনলাইন ও পত্রিকায় প্রচার করে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন শাহীন। একই সঙ্গে তিনি অপর পক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুট ব্যবসা সংক্রান্ত মারামারির মূল ঘটনাকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই নাটক সাজানো হয়েছে।
গাছা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নাঈম ইসলাম মাস্টার বলেন, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এবং এককভাবে জুট ব্যবসা দখল করতে শাহিন নিজেই নিজের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে ইন্টারনেট ব্যবসা ও দলীয় অফিস ধ্বংসের নাটক সাজাচ্ছেন। ৫ আগস্টের আগে তাকে বিএনপির কোনো কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। বরং তিনি এখন আওয়ামী লীগ ট্যাগ ব্যবহার করে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি এলাকায় ময়লার ব্যবসা, জুট ব্যবসা, নেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি একের পর এক অন্যায় ও মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে যাচ্ছেন। শাহিনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হয় এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।
