খবর খুঁজুন
● ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে ফেক আইডিতে একাধিক নারীকে প্রতারণা: অর্থ আত্মসাৎ ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

প্রতিনিধি - NewsGazipur •
সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে ফেক আইডিতে একাধিক নারীকে প্রতারণা: অর্থ আত্মসাৎ ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

 



গাজীপুর প্রতিনিধি | আসিফ ইকবাল জনি

গাজীপুর থেকে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া (ফেক) আইডি ব্যবহার করে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছেন এবং দ্রুত তাকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। একপর্যায়ে কথিত সামরিক পরিচয় ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাস ও নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি একাধিক নারী তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগও করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি সত্যিই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, একজন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সামরিক পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও ভাবমূর্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার গুরুতর অভিযোগ। তাই এ ঘটনায় কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীরা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরও কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তদন্তের স্বার্থে তাদেরও সামনে আনা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, পরিচয়, মোবাইল নম্বর, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত, প্রয়োজনে গ্রেপ্তার এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা যদি প্রশ্রয় পায়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতারণা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে নির্দোষ ধরে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে কেউ সাহস না করে, সেটি নিশ্চিত করা হোক।