Type Here to Get Search Results !
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

Footer Copyright

কাগজে-কলমে খাল, বাস্তবে বহুতল ভবন

Representative - Md. Shamim Reza
কাগজে-কলমে খাল, বাস্তবে বহুতল ভবন


 নিজেস্ব প্রতিবেদক (গাজীপুর) 

ভবন

কাগজে-কলমে খালের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে সেখানে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন ও কারখানা। দখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে গাজীপুরের প্রায় অর্ধশত খাল। বিগত সরকারের উদাসীনতাকেই এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সিটি প্রশাসক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালের জৌলুস ফেরাতে খনন কার্যক্রমের পাশাপাশি এর সঠিক সীমানা নির্ধারণ জরুরি।

গাজীপুরে খাল দখলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ তুরাগ খাল। সরেজমিনে দেখা যায়, তুরাগ নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা এই খালটি গাছা এলাকায় এসে অস্তিত্ব হারিয়েছে। খালের ওপর দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে দুটি কারখানা। এলাকাবাসীর দাবির মুখে সম্প্রতি একটি ড্রেনের মাধ্যমে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একসময়ের প্রায় ৬০ ফুট চওড়া খালটি এখন মাত্র ৫ ফুটের ড্রেনে পরিণত হয়েছে। 


স্যাটেলাইট ছবিতেও এই পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট। মাত্র এক যুগের ব্যবধানে কীভাবে খালের জায়গায় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল, সে বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

শুধু কারখানাই নয়, এই খাল দখলে নিয়েছেন স্থানীয় অনেক বাসিন্দাও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে শিল্পাঞ্চলের আশপাশের অন্তত ডজনখানেক খাল চলে গেছে প্রভাবশালীদের পকেটে। কোথাও খালের বুক চিরে তৈরি হয়েছে পাকা রাস্তা, কোথাও আবার গড়ে উঠছে একের পর এক বহুতল ভবন। এর ফলে চরম জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন খালপাড়ের বাসিন্দারা। জানা গেছে, গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টি খাল রয়েছে। জেলার প্রায় সবকটি খালের কোনো না কোনো অংশ এখন এভাবেই দখলের শিকার।

এমন বাস্তবতায় জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান সিটি প্রশাসক। বিগত সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মাসুল এখন গাজীপুরবাসী গুনছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘আমার জানামতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের জায়গায় এসব স্থাপনা করেছে। তবে জলাধার ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপাতত বর্ষার কথা চিন্তা করে পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন করা হচ্ছে। খননের সময় কোনো স্থাপনা আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটালে আমরা তা ভেঙে দেব।’

 

সারাদেশে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরেও এ কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, এরই মধ্যে খাল দখলকারীদের তালিকা তৈরি করছে কর্তৃপক্ষ। খনন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযানে নামছে প্রশাসন।

 

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসাইন বলেন, ‘দখল উচ্ছেদ না করেই চালু হওয়া খাল খনন কার্যক্রম কতটা সুফল বয়ে আনবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আগে সীমানা নির্ধারণ করে উচ্ছেদ করতে হবে। এভাবেই জলাধারকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগরী গড়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডকে অনুসরণ করা যেতে পারে।’