![]() |
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় মো. জালাল মাহমুদ টুটুল (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তিনি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে পুলিশের আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গী পশ্চিম থানার এফআইআর নম্বর ৩৭, তারিখ ২৭ জুলাই ২০২৬ এবং জিআর নম্বর ২৪৮-এর মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯(৩), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ জুলাই ভোরে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ বাগানবাড়ি এলাকায় মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট-সংলগ্ন হযরত শাহজালাল রোডের শেষ মাথায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সমবেত হওয়ার খবর পায় পুলিশ। ওই তথ্য যাচাই করতে পুলিশ সেখানে গেলে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জন পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সেখানে তারা মিছিল ও স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছিল। পুলিশের প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য, স্লোগান ও ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেন।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে জালাল মাহমুদ টুটুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তাকে থানায় হাজির করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সিডিএমএস পর্যালোচনায় ওই আসামির বিরুদ্ধে বিরূপ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনায় জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত এবং এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জালাল মাহমুদ টুটুলকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এ কারণে তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডের বিষয়ে আদালতের আদেশই চূড়ান্ত হবে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২৭ জুলাই ২০২৬ টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম, সমাবেশ, মিছিল, স্লোগান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা পুলিশের প্রতিবেদন মূলত তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য ও অভিযোগের বিবরণ। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের।
মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুর হলে পুলিশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালাল মাহমুদ টুটুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের আদালত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ওই মামলায় পুলিশ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্ত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
