খবর খুঁজুন
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

যেসব কারণে দূষিত হচ্ছে ঢাকার ৩ নদী

প্রতিনিধি - Md. Shamim Reza
যেসব কারণে দূষিত হচ্ছে ঢাকার ৩ নদী


 

বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী সদরঘাট, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, জিঞ্জিরা, শ্যামপুরের মত ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চলগুলোকে দূষণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঢাকার বুড়িগঙ্গা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’, তুরাগ ‘সংকটাপন্ন’ ও ধলেশ্বরী নদীকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ বিষয়ক নৌবাহিনীর এক প্রতিবেদনে।


মূলত শিল্পকারখানার বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য, প্লাস্টিক, বাজারের আবর্জনা, নৌযানের তেল ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ এর কারণ বলে এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।


এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদী দখল, তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহপথ সংকুচিত হওয়ার মত সমস্যা।



‘বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা' শীর্ষক প্রতিবেদন নৌবাহিনীর তরফে এ প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এক মতবিনিময় সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চল এর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ আল মাকসুস।


‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদী সংরক্ষণকল্পে’ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা ও অংশীজনের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা হয়।


তিন নদী দূষণের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা দূষণ উৎসের মধ্যে রয়েছে ট্যানারি বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য, শিল্প ও বাজারের বর্জ্য, তেল এবং বিভিন্ন ধরনের কঠিন আবর্জনা। সেই সঙ্গে নৌযান থেকে নির্গত তেল ও অন্যান্য দূষিত পদার্থও দূষণের জন্য দায়ী।



বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী সদরঘাট, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, জিঞ্জিরা, শ্যামপুরের মত ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চলগুলোকে দূষণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে তুরাগ নদীর প্রধান দূষণ উৎস হিসেবে শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী শিল্প ও আবাসিক এলাকার এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকায় দূষিত পদার্থ নদীতে প্রবেশ করছে। কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, টঙ্গী, কামারপাড়া, আশুলিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্প ও আবাসিক এলাকাও নদী দূষণের অন্যতম কারণ।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের তুলনায় ধলেশ্বরীর দূষণ নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম হলেও নদীটিও নিরাপদ নয়। শিল্পবর্জ্য, ভারী ধাতু এবং জীবাণু দূষণকে ধলেশ্বরীর প্রধান দূষণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


মতবিনিময় সভায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “যাদের কারখানায় ইটিপি আছে, দয়া করে ইটিপিটা চালু রাখবেন। কারখানায় ইটিপি আছে কিন্তু চালু রাখলাম না তাতে নদী দূষণ হবে। কারখানার প্রত্যেকটা ইটিপি যেন চালু থাকে।


“উৎপাদনও বাড়াইতে হবে, সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে সম্পদ উৎপাদন যেন দেশের পরিবেশকে নষ্ট না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”




তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের অভিযোগ, “ইটিপি (ইফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) চালিয়ে আমার পানিটা যে খালে ফেলতেছি, ওই একই খালে আরও ২০, ৩০ কিংবা ৫০ জন ইটিপি ছাড়া সরাসরি নদীতে কারখানার পানি ফেলছে। তাইলে আমি যে ইটিপির মাধ্যমে ছাড়লাম পানিটা, এতে কোনো লাভ হইল? উল্টা খরচ বাড়ল, উপকার হইল না।”


কেন্দ্রীয় ইটিপি স্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “অন্তত খালের মুখগুলোর মধ্যে যদি সেন্ট্রাল ইটিপি বসানো যায় এই পরিবেশ ও নদী দূষণ থেকে রক্ষা পাবে।”


বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, “তুরাগের পানি নড়ে না, কাদার মত হয়ে গেছে। সত্যি ভয়াবহ।


“পরিবেশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য যে দপ্তরগুলো আছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সবাই যদি নৌবাহিনীর সহযোগিতায় এ কাজগুলো করতে পারি, আমি মনে করি এটা অনেক ভালো হবে, আরও নিয়ন্ত্রণটা অনেক ভালো হবে।”


মতবিনিময় সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর