খবর খুঁজুন
ব্রেকিং
খবর লোড হচ্ছে...

ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

প্রতিনিধি - Md. Shamim Reza
ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ


 টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী নিহত


গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তার সহপাঠীরা। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৯ আগস্ট) দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পারাপার হচ্ছেন। সড়কের ওপর দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটেছে। আরও প্রাণহানি ঠেকাতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকলেও নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে। একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শুধু দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আর কোনো সহপাঠীকে সড়কের নির্মম শিকার হিসেবে দেখতে চাই না। একজনের প্রাণ চলে যাওয়ার পরও যদি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।”

তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবি, নিরাপদ সড়ক কোনো বিলাসিতা নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। তাই প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনা রোধে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও তারা জানান।

এদিকে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং পরিবারের সদস্যদের এই শোক সইবার শক্তি কামনা করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল দাবি—দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীর প্রাণহানি না হওয়া।

তাদের ভাষ্য, একটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কিংবা ক্ষতিপূরণের চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি জরুরি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে—এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।