প্রতিটি বাসা এবং অফিসে রাউটার এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রিমোট কাজ, অনলাইন ক্লাস, ভিডিও কনফারেন্স, ক্লাউড অ্যাপ, স্ট্রিমিং—সব মিলিয়ে এর গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। ফলশ্রুতিতে বাজারে রাউটার কেনাবেচাও বেড়েছে। কিন্তু “ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ” থাকলেই হবে না—বাস্তবে স্টেবল কভারেজ, কম লেটেন্সি, এবং মাল্টি-ডিভাইস পারফরম্যান্স পেতে ভালো Wi-Fi রাউটারই মূল।
নিচে এক নজরে দেখে নিন—একটি গ্রাহক উপযোগী (এবং IT/tech-friendly) রাউটার বাছাইয়ের সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন।
বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট (কমপ্লায়েন্স): Single-band কার্যত আউট, Dual-band + IPv6 ইনফোকাস
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রেগুলেটরি আপডেট/রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে—২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল-ব্যান্ড (শুধু 2.4GHz) রাউটার আমদানি/উৎপাদন/বাজারজাত সীমিত বা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং বাজারে থাকা রাউটারকে দুই ব্যান্ড সাপোর্ট করতে হবে: 2.4–2.483 GHz ও 5.725–5.875 GHz।
আর সাম্প্রতিক আপডেটগুলোতে সব নতুন ISM-band Wi-Fi রাউটারে IPv6 সাপোর্ট বাধ্যতামূলক করার কথাও এসেছে—কেনার সময় এটা স্পেকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
এছাড়া ৬GHz (5925–6425 MHz) ব্যান্ডকে Wi-Fi/IoT/WLAN ব্যবহারের জন্য shared basis-এ অনুমোদনের কথাও আলোচনায় আছে—যা ভবিষ্যতে Wi-Fi 6E/7 ইকোসিস্টেমকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে।
১) Single-Band বনাম Dual-Band রাউটার: মূল পার্থক্য কোথায়?
সিঙ্গেল-ব্যান্ড রাউটার (2.4 GHz only)
ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: শুধু 2.4 GHz
গতি (থিওরিটিক্যাল): 802.11g-এ সর্বোচ্চ 54 Mbps, 802.11n-এ ভ্যারিয়েন্টভেদে 600 Mbps পর্যন্ত (বাস্তবে পরিবেশ/চ্যানেল কনজেশন/দেয়ালভেদে অনেক কম হয়)
ব্যাপ্তি: তুলনামূলকভাবে বেশি (দেয়াল ভেদ করে ভালো যায়)
ইন্টারফেয়ারেন্স: বেশি—কারণ 2.4GHz-এ অনেক ডিভাইস/পাশের Wi-Fi চলে
কার জন্য: খুব বেসিক ইউজ-কেসে চললেও, বাংলাদেশে কমপ্লায়েন্স/মার্কেট ট্রেন্ড বিবেচনায় এটি এখন “সেফ বায়” নয়
ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার (2.4 GHz + 5 GHz)
ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড: 2.4 GHz এবং 5 GHz (বাংলাদেশে রিপোর্টেড রেঞ্জ: 5.725–5.875 GHz)
গতি: 5GHz-এ সাধারণত বেশি থ্রুপুট/কম লেটেন্সি (802.11ac-এ 1300 Mbps ক্লাস, 802.11ax/Wi-Fi 6-এ আরও উন্নত এফিসিয়েন্সি—সবই থিওরিটিক্যাল; বাস্তবে কম)
পরিসর: 5GHz-এর রেঞ্জ ছোট, তবে কম ইন্টারফেয়ারেন্স হওয়ায় পারফরম্যান্স ভালো হতে পারে
কার জন্য: মাল্টি-ডিভাইস হোম/অফিস, গেমিং, HD/4K স্ট্রিমিং, ভিডিও কনফারেন্স—সব ক্ষেত্রেই এখন ডিফল্ট চয়েস
টেক টিপ: শুধু “5GHz supported” লেখা দেখেই থামবেন না—স্পেকে 5.725–5.875 GHz বা UNII-3 চ্যানেল সাপোর্ট আছে কি না মিলিয়ে নিন (রিজিয়ন-লক/ফার্মওয়্যার-রিজিয়ন ভুল হলে ঝামেলা হয়)।
২) Wi-Fi স্ট্যান্ডার্ড (802.11): কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Wi-Fi একটি বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে, যাতে বিভিন্ন ডিভাইস সমস্যা ছাড়াই কানেক্ট হতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড যত নতুন, সাধারণত বেশি ডিভাইস হ্যান্ডলিং, এয়ারটাইম এফিসিয়েন্সি, এবং রিয়েল-ওয়ার্ল্ড থ্রুপুট তত ভালো (ভালো হার্ডওয়্যার হলে)।
ধীরতম → দ্রুততম (কমন):
802.11b (Wi-Fi 1)
802.11a (Wi-Fi 2)
802.11g (Wi-Fi 3)
802.11n (Wi-Fi 4)
802.11ac (Wi-Fi 5)
802.11ax (Wi-Fi 6)
এখন কেন Wi-Fi 6 ‘সুইট স্পট’: অনেক ডিভাইস (মোবাইল/ল্যাপটপ/টিভি/ক্যামেরা/IoT) একসাথে চালালে Wi-Fi 6 সাধারণত বেশি স্টেবল থাকে—বিশেষ করে OFDMA/MU-MIMO ইত্যাদি ভালোভাবে ইমপ্লিমেন্ট থাকলে।
Wi-Fi 7/ভবিষ্যৎ ভাবনা: 6GHz-এ বড় চ্যানেল অপারেশন ও উন্নত লিংক-ম্যানেজমেন্ট ফিচারের কারণে মাল্টি-গিগাবিট ইউজ-কেসে Wi-Fi 7 ভবিষ্যতে বেশি গুরুত্ব পাবে—তবে বাস্তবে লাভ পেতে রাউটার+ক্লায়েন্ট—দুই দিকেই সাপোর্ট লাগবে।
৩) “MU-MIMO, WPA3, Beamforming”—এগুলো কেন দেখবেন?
MU-MIMO: একাধিক ডিভাইসকে একসাথে সার্ভ করতে সাহায্য করে (high-density বাড়ি/অফিসে কাজে দেয়)
Beamforming: ক্লায়েন্টের দিকে সিগন্যাল ফোকাস করে কভারেজ/স্ট্যাবিলিটি উন্নত করতে পারে
WPA3: আধুনিক সিকিউরিটি; অন্তত WPA2-AES, সম্ভব হলে WPA3
QoS / SQM (থাকলে ভালো): ভিডিও কল/গেমিং ট্রাফিক প্রাধান্য; আপলিঙ্ক বাফারব্লোট কমাতে সহায়ক হতে পারে
IPv6 Support (বাংলাদেশ আপডেট): WAN-side IPv6 (DHCPv6/PPPoE-IPv6), LAN-side RA/DHCPv6-PD ইত্যাদি—স্পেকে এবং UI-তে আছে কি না দেখুন
৪) বাজারে কী কী ধরনের Router আছে (আপনার তালিকা গুছিয়ে)
১) Wireless Router (Home/Small Office): বাসা/ছোট অফিসে সবচেয়ে জনপ্রিয়—Wi-Fi + NAT + DHCP।
২) Wired Router: ইথারনেট-ফোকাসড; অফিসে স্টেবল wired নেটওয়ার্ক দরকার হলে ভালো (পৃথক AP যোগ করা যায়)।
৩) Dual-Band Router: 2.4+5GHz—মাঝারি ডিভাইস ও mixed use-এর জন্য ব্যালান্সড।
৪) Tri-Band Router: অতিরিক্ত 5GHz ব্যান্ড; খুব বেশি ডিভাইস/ডেন্স এনভায়রনমেন্টে কনজেশন কমাতে সহায়ক।
৫) Mesh Router: একাধিক নোডে বড় জায়গায় seamless কভারেজ; ডেড-স্পট কমায় (সম্ভব হলে wired backhaul বেস্ট)।
৬) Gaming Router: কম লেটেন্সি/QoS-ফোকাস; বাস্তবে uplink management-টাই বড়।
৭) VPN Router: রাউটার-লেভেলে VPN; এনক্রিপশন থ্রুপুট/CPU overhead মাথায় রাখুন।
৮) Enterprise-grade: বড় নেটওয়ার্ক; সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট, VLAN/802.1X, হাই ক্যাপাসিটি, পলিসি-ড্রিভেন সেটআপ।
৫) রাউটার কেনার সময় “টেক চেকলিস্ট” (বাংলাদেশ + বাস্তব ব্যবহার)
Band compliance: 2.4–2.483 GHz + 5.725–5.875 GHz স্পেকে আছে কি না
IPv6: বাধ্যতামূলক সাপোর্ট—WAN/LAN উভয় পাশে বাস্তবে কাজ করে কি না
Ports: 100Mbps+ লাইন হলে Gigabit WAN/LAN
Coverage plan: বড় ফ্ল্যাট/দুই তলা হলে Mesh বা multi-AP ডিজাইন
Security: WPA3, Guest network, firmware update policy
Real-world capacity: CPU/RAM, simultaneous devices, MU-MIMO/OFDMA
Region/Firmware: দেশ/রিজিয়ন সেটিং ভুল হলে 5GHz চ্যানেল/পাওয়ার ইস্যু হতে পারে
Warranty/Official distribution: ফার্মওয়্যার/সাপোর্ট ও নকল পণ্য এড়াতে জরুরি
দ্রুত সিদ্ধান্ত (শর্ট গাইড)
ছোট বাসা + কম ডিভাইস: Dual-band Wi-Fi 5/6
মাঝারি বাসা + ১০–২০ ডিভাইস: Wi-Fi 6 (ভালো CPU/RAM + MU-MIMO)
বড় বাসা/ডেড-স্পট: Mesh (wired backhaul থাকলে আরও ভালো)
অফিস/SMB: Wired router + আলাদা AP + VLAN/Guest isolation
ভবিষ্যৎ-প্রুফ: 6GHz ইকোসিস্টেম বুঝে Wi-Fi 6E/7 বিবেচনা (ক্লায়েন্ট ডিভাইস সাপোর্টসহ)
Tags
Wi-Fi Router, Bangladesh, BTRC, Dual-Band, Single-Band, 2.4GHz, 5.725–5.875GHz, Wi-Fi 6, 802.11ax, Wi-Fi 6E, 6GHz 5925–6425MHz, IPv6, MU-MIMO, WPA3, Beamforming, QoS, Mesh Router, Enterprise Networking

